তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে তিস্তাপাড়ে আলোর মিছিল
তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল
তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তা নদীর দুই তীরের পাঁচ জেলার আটটি স্থানে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনটির নেতারা জানান, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করায় তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাবাজার এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি নদীভাঙন রোধ, নদী খনন, কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নৌযোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের একটি সমন্বিত উদ্যোগ।
তিনি বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিশ্রুতি শুনে এসেছে। এখন তারা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। তাই দ্রুত প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানানো হচ্ছে।
সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা অংশ নেন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
একই সময়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া, নীলফামারীর জলঢাকা এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুরসহ তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় একই দাবিতে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন দ্রুত একনেক অনুমোদন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা জরুরি।
কর্মসূচি থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন, দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু, ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা।
সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি চালিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
