ছাত্রশিবিরের মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক অনুষ্ঠিত

জুলাই মাসের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করল ছাত্রশিবির, ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

দারসুল কুরআনের মাধ্যমে বৈঠকের সূচনা হয়। পরে বিগত মাসের সাংগঠনিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন, বিভিন্ন বিভাগের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জুলাই মাসের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে শাখাসমূহের ষাণ্মাসিক রিপোর্ট প্রস্তুত, গ্রহণ ও মূল্যায়ন এবং কেন্দ্রীয় বিভিন্ন বিভাগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, জুলাই মাসজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও অনার্স কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার গাইডলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এছাড়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের আদর্শিক, নৈতিক ও সাংগঠনিক মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি প্রত্যেক জনশক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও আন্তরিক পরিচর্যার মাধ্যমে দক্ষ, আদর্শবান ও দায়িত্বশীল কর্মী গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তি গঠন, ইখলাস, জবাবদিহিতা এবং সময়ানুবর্তিতার চর্চায় সবাইকে আরও মনোযোগী হতে হবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রজ্ঞা, দায়িত্ববোধ ও দূরদর্শিতার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঘোষিত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তার ভাষায়, এ কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, গণআকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।

সবশেষে কেন্দ্রীয় সভাপতি সকল স্তরের দায়িত্বশীলদের প্রতি প্রতিটি কর্মসূচি সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও জনসম্পৃক্তভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। সমাপনী বক্তব্য, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে বৈঠকের কার্যক্রম শেষ হয়।

Next News Previous News