এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী

সারা দেশে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থাসহ একাধিক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। সারাদেশে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৯ হাজার ৪৩৯টি।

বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে সরকার বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।

৯ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র

এবারের পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আরও সমতা নিশ্চিত হবে এবং বিভিন্ন বোর্ডের মধ্যে ফলাফলের বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একই প্রশ্নপত্র ব্যবহারের ফলে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন আরও কার্যকর হবে।

সিসিটিভি ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে অনিয়ম প্রতিরোধে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে দেশের যেকোনো পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এসব প্রযুক্তি পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করবে।

২১ দিনে শেষ হবে পরীক্ষা

মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অযথা বিরতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা

শিক্ষামন্ত্রী জানান, অতীতে নকলের জন্য পরিচিত কিছু ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর অঞ্চল, পার্বত্য এলাকা এবং দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কিছু বিশেষ ভেন্যু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো কোনো ধরনের প্রশ্নফাঁস, নকল বা অনিয়ম ছাড়াই পরীক্ষা সম্পন্ন করা। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।

ছাত্রীর সংখ্যা এখনও বেশি

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ছাত্র পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ১২২ জন এবং ছাত্রী বেড়েছে ১৩ হাজার ১৯৪ জন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সুষ্ঠু পরীক্ষা আয়োজনই প্রধান লক্ষ্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করাই এবার তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা আয়োজনের আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেশজুড়ে লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষাকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন সবার প্রত্যাশা, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের সুযোগ পাবে।

Source: Based on reporting from Amar Desh and information provided by the Ministry of Education.

Next News Previous News