ইরান সংঘাতে চীন, রাশিয়া ও তুরস্ককে দূরে রাখতে ভূমিকার দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার সময় তুরস্ক, চীন এবং রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী দেশগুলোকে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তিনি এসব দেশের নেতাদের যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তারা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। সেখানে এক সাংবাদিক তুরস্ক সফরের সম্ভাবনা এবং তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
এরদোগানকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
ট্রাম্প বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য নেতাদের একজন ছিলেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এরদোগানকে সংঘাতের বাইরে থাকার পরামর্শ দেন এবং তুর্কি নেতা সেই অবস্থান বজায় রাখেন বলে দাবি করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তুরস্কের শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিবেচনায় দেশটির সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারত। তিনি এরদোগানকে “শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নেতা” হিসেবেও বর্ণনা করেন।
চীন ও রাশিয়াকেও অনুরোধ করার দাবি
শুধু তুরস্ক নয়, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ করেছিলেন বলে ট্রাম্প জানান। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ও কৌশলগত স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও চীন সংঘাতে সরাসরি জড়ায়নি। একইভাবে রাশিয়াও পরিস্থিতির বাইরে থেকেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তিনটি শক্তিধর দেশের সম্পৃক্ততা ঘটলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারত। তিনি এটিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি সফল উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
দাবির পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ নেই
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক বা অন্য কোনো দেশ বাস্তবে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। ট্রাম্পও তার বক্তব্যে এ ধরনের সম্ভাবনার পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেননি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনীতি অত্যন্ত জটিল। তুরস্ক, চীন এবং রাশিয়া প্রত্যেকেই নিজেদের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা কৌশলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। ফলে কোনো সংঘাতে তাদের অবস্থান নির্ধারণে একাধিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিষয় কাজ করে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনা
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এখন শুধু সামরিক শক্তি নয়, কূটনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জ্বালানি নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত দেখা দিলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে, যার প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোও অনুভব করে।
ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তার দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্য কতটা বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন এবং কতটা রাজনৈতিক মূল্যায়ন, তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Source: Based on reporting from The Times of Israel and statements made by U.S. President Donald Trump at the White House.
