মদ খেতেও নাকি লাইসেন্স লাগে, এটা কোন দেশের আইন

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মদ পানের লাইসেন্স ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি বলেন, বিভিন্ন পেশা ও কর্মকাণ্ড পরিচালনায় লাইসেন্সের বিধান থাকলেও মদ্যপানের জন্য আলাদা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং লাইসেন্স প্রক্রিয়ার কিছু দিক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

লাইসেন্স ব্যবস্থা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

বক্তব্যে মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, গাড়ি চালানো, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা অন্যান্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে মদ্যপানের ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা রয়েছে।

তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের কাছে জানতে চান, এ ধরনের বিধান কীভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং এর যৌক্তিকতা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন কি না।

মদ ও মাদককে আলাদা করে দেখার আহ্বান

সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে মদ ও অন্যান্য অবৈধ মাদকদ্রব্যকে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, অনেক সময় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হতে পারেন।

তার মতে, আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাজেটের প্রশংসা

বাজেট আলোচনায় তিনি সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশংসাও করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বিভিন্ন সংকটের মধ্যেও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী, হৃদরোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসংক্রান্ত কিছু পণ্যের মূল্য কমানোর উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাজেটের প্রয়োজন

মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের জন্য বড় আকারের বাজেট অপরিহার্য। রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে বাজেট বাস্তবায়নে সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

হাওড় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য হাওড় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার দাবি জানান। তিনি রাতের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে স্পিডবোট, টহল যানবাহন এবং পুলিশি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের আহ্বান জানান।

তার মতে, দুর্গম ও জলাভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের পরিবহন ও সরঞ্জাম প্রয়োজন, যা স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও সহায়ক হবে।

বাজেট আলোচনায় উত্থাপিত এই বক্তব্যগুলো সংসদে অর্থনীতি, জনকল্যাণ, আইনশৃঙ্খলা এবং নীতিগত বিষয় নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

Source: Based on parliamentary proceedings and reporting from Kaler Kantho.

Next News Previous News