ট্রাম্প দুর্নীতিগ্রস্ত, তার কোনো লজ্জা নেই: জো বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর প্রথম বড় রাজনৈতিক ভাষণে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে “অযোগ্য” ও “চরম দুর্নীতিগ্রস্ত” বলে আখ্যায়িত করে অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি এবং আত্মপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বাইডেন এসব মন্তব্য করেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই ভাষণ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘হোয়াইট হাউসে নজিরবিহীন দুর্নীতি’
ভাষণে বাইডেন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে হোয়াইট হাউসে এত প্রকাশ্য ও নজিরবিহীন দুর্নীতির উদাহরণ আগে দেখা যায়নি। তার অভিযোগ, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন এবং প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।
বাইডেন বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তার মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত ও আত্মপ্রচারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা
সাবেক প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং পুনর্নির্মাণ, বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রকল্পের সমালোচনা করেন। তিনি এসব উদ্যোগকে আত্মপ্রচারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাইডেনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ প্রশাসনের নীতি ও অগ্রাধিকারের প্রতিফলন নয়; বরং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গঠনের প্রচেষ্টা। তিনি ট্রাম্পকে “আত্মমুগ্ধ” ও “ব্যর্থ নেতা” বলেও উল্লেখ করেন।
ক্যাপিটল হামলা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও প্রশ্ন
বক্তব্যে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার প্রসঙ্গও তুলে আনেন বাইডেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় জড়িতদের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের আলোচনা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
তার মতে, যারা ওই হামলায় অংশ নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিরও সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, বাইডেনের এই বক্তব্য আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের সংগঠিত করার একটি প্রচেষ্টা। দীর্ঘদিন তুলনামূলকভাবে নীরব থাকার পর তিনি আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাইডেন নিজেও দলীয় রাজনীতির ভেতরে নানা সমালোচনার মুখে রয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা, নির্বাচনী সিদ্ধান্ত এবং পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়বে?
মার্কিন রাজনীতি বর্তমানে গভীরভাবে বিভক্ত। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাইডেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে ট্রাম্পপন্থীরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। ফলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুই শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপসংহার
হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর প্রথম বড় রাজনৈতিক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে জো বাইডেনের কড়া সমালোচনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দুর্নীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, গণতন্ত্র এবং পররাষ্ট্রনীতি—বিভিন্ন ইস্যুতে উভয় পক্ষের অবস্থান আগামী মাসগুলোতে মার্কিন রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
