অরুণাচলে চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী জমি হারানোর শঙ্কায় সীমান্তবাসী
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ‘নহ্’ (Na) উপজাতি সম্প্রদায়ের নেতারা দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ধীরে ধীরে তাদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, শিকার এলাকা এবং কৃষিজমির একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় চীনা তৎপরতা বৃদ্ধিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে কী বলা হয়েছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে সংগঠনের সভাপতি কেরু চাদ অভিযোগ করেন যে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পিএলএর উপস্থিতি ও কার্যক্রম ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে স্থানীয় জনগণ তাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত বিভিন্ন এলাকায় আগের মতো প্রবেশ করতে পারছে না।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা চারণভূমি, শিকারক্ষেত্র এবং কৃষিজমি এখন কার্যত স্থানীয়দের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই নয়, সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যগত জীবনধারাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জীবিকা ও সংস্কৃতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অনেক পরিবার পশুপালন, ক্ষুদ্র কৃষিকাজ এবং বনজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় নেতাদের মতে, এসব এলাকায় প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে গেলে মানুষের আয়, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তারা বলছেন, বিষয়টি কেবল জমি হারানোর প্রশ্ন নয়; বরং এটি একটি সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের সঙ্গেও জড়িত।
ভারত-চীন সীমান্তে পুরোনো উত্তেজনা
অরুণাচল প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলের অংশ হিসেবে পরিচিত। চীন অঞ্চলটির একটি বড় অংশকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসছে, যদিও ভারত অরুণাচল প্রদেশকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, টহল কার্যক্রম এবং সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি নিয়ে একাধিকবার উত্তেজনা দেখা গেছে। ফলে নতুন এই অভিযোগ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি
স্থানীয় সংগঠনটি সীমান্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং জনগণের ঐতিহ্যগত অধিকার সুরক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছে। তারা কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বা চীনা সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে দাবিগুলোর স্বাধীন যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
উপসংহার
অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলায় স্থানীয় ‘নহ্’ সম্প্রদায়ের উত্থাপিত অভিযোগ সীমান্ত অঞ্চলের জনগণের নিরাপত্তা, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং দুই দেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা এবং স্থানীয় সংগঠনের স্মারকলিপির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
