আসলাম চৌধুরীর নির্দেশে মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক ঘণ্টার জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আসলাম চৌধুরীর আহ্বানে অবরোধ প্রত্যাহার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের রায় প্রকাশের পর সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়দারোগাহাট, ছোট দারোগাহাট, কুমিরা, ফকিরহাট, বাড়বকুণ্ড, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী, ছলিমপুর এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নেন। কোথাও গাছের গুঁড়ি ফেলে, কোথাও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা আদালতের রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে অবস্থান করেন। এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী উভয় লেনেই যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
৫০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত দূরপাল্লার বাস, কনটেইনারবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে।
নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ যাত্রীদের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের মধ্যে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প পথ ব্যবহার করেন বা হেঁটে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের প্রধান যোগাযোগপথ হওয়ায় এই অবরোধ পণ্য পরিবহন ও শিল্পকারখানার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও সাময়িক প্রভাব ফেলে।
পুলিশের বক্তব্য
কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আফসার জানান, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, যানজট নিরসন এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আসলাম চৌধুরীর আহ্বানে অবরোধ প্রত্যাহার
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসলাম চৌধুরী দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাধ্যমে মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিকেল ৫টার দিকে তার এই বার্তা পৌঁছানোর পর বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে সড়ক ত্যাগ করতে শুরু করেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ গাছের গুঁড়ি, পোড়া টায়ার ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেললে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রায়ের পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন থেকে আদালতে গড়ায় এবং পরবর্তীতে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে শুনানি হয়। সর্বশেষ আপিল বিভাগের রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
এই রায়ের পরই সীতাকুণ্ডে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
শিল্পাঞ্চলে প্রভাব
সীতাকুণ্ড দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে ইস্পাত, সিমেন্ট, এলপিজি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে মহাসড়কে কয়েক ঘণ্টার অবরোধ শিল্প খাতের সরবরাহ চেইন এবং বন্দরমুখী পরিবহনে সাময়িক চাপ সৃষ্টি করে।
তবে সন্ধ্যার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে এলে পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
