বাংলাদেশি স্ত্রীকে খুঁজতে কুড়িগ্রামে চীনা নাগরিক, প্রতারণার অভিযোগে থানায় আবেদন
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক বাংলাদেশি নারীকে বিয়ে করার পর প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন চীনের নাগরিক আন হংওয়েই। তাঁর দাবি, স্ত্রী প্রায় চার হাজার মার্কিন ডলার, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র এবং কিছু মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। স্ত্রীকে খুঁজে পেতে তিনি সরাসরি শ্বশুরবাড়িতে যান এবং পরে স্থানীয় থানার সহায়তা চান।
সোমবার বিকেলে আন হংওয়েই ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে তাঁর স্ত্রীর বাবার বাড়িতে উপস্থিত হন। বিদেশি নাগরিকের আগমনের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
স্ত্রীর সন্ধানে শ্বশুরবাড়ি থেকে থানায়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন হংওয়েই তাঁর স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে প্রথমে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে সন্তোষজনক কোনো তথ্য না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফুলবাড়ী থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ জানান। তিনি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও পাওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদেশি নাগরিকের এমন অভিযোগ এবং স্ত্রীকে খুঁজতে দূর দেশ থেকে বাংলাদেশে আসার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।
পুলিশ যা বলছে
ফুলবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আন হংওয়েই ও মোর্শেদা বেগমের পরিচয় এবং বিয়ে কুড়িগ্রামে নয়, ঢাকার সাভার এলাকায় হয়েছে। মোর্শেদা বেগম কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। তিনি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকার সময় চীনা নাগরিকের সঙ্গে পরিচিত হন বলে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যেহেতু বিয়ে ও পরবর্তী ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই সাভার এলাকায় ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাই বিষয়টি তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিয়েতে আইনি সচেতনতার গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি নাগরিক ও বাংলাদেশিদের মধ্যে বিয়ের ঘটনা আগের তুলনায় বাড়ছে। তবে এ ধরনের সম্পর্কে উভয় পক্ষের পরিচয় যাচাই, বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি বা আইনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চীনা নাগরিক আন হংওয়েইয়ের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
