দ্বিতীয় দফায় ইরানে রাতভর মার্কিন হামলা

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে মার্কিন হামলা, নতুন করে বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আবারও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৭ জুন) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা এখন কার্যত সংকটের মুখে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সর্বশেষ এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সমুদ্রে মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামের আশপাশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কেশম দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ না করে, তাহলে এই সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান আরও জোরদার করবে।

অন্যদিকে ইরানও বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। ফলে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হননি এবং বহন করা অপরিশোধিত তেলেরও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

সেন্টকম জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল এবং আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘মেরিনট্রাফিক ডটকম’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

Next News Previous News