খামেনির শেষ বিদায়ে মোদিকে আমন্ত্রণ জানাল ইরান

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে আয়োজিত বহুজাতিক শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে পাঠানো এই আমন্ত্রণকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেছে। অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে ইরান।

জুলাইজুড়ে চলবে শোকানুষ্ঠান

প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শোকানুষ্ঠান শুরু হবে। কয়েক দিনব্যাপী এই আয়োজন ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘটবে।

ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে শুধু একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি বিশেষ স্মরণসভা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ

ইরানি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে চীন, রাশিয়া, কাতার, পাকিস্তান, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। অন্যান্য দেশ থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।

মোদির অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেবেন নাকি ভারতের পক্ষ থেকে অন্য কোনো প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার বিষয়টি ভারত-ইরান সম্পর্কের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

জ্বালানি, বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চাবাহার বন্দরসহ বিভিন্ন কৌশলগত ইস্যুতে ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। ফলে এ ধরনের অনুষ্ঠানে ভারতের অংশগ্রহণ কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই শোকানুষ্ঠান শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, বরং বিভিন্ন দেশের নেতাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে খামেনির মৃত্যু এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলির বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে ভিন্ন তথ্য ও দাবি থাকায় বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও যাচাইকৃত তথ্যের দিকেও নজর রাখছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News