আফগানিস্তানে হামলা পাকিস্তানের, আগ্রাসন বলছে ভারত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা ভারতের, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি এই হামলাকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসন এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার ও সোমবার মধ্যরাতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। ভারতের দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

নয়াদিল্লি হামলায় নিহত বেসামরিক মানুষের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তালেবান সরকারের দাবি

আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই বিমান হামলায় পাকতিকা, পাকতিয়া ও কুনার প্রদেশে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে দাবি করেছে তারা।

পাকতিয়া প্রদেশের বাসিন্দা আদম খান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, হামলার পর হাসপাতালগুলোতে আহত শিশু ও স্বজন হারানো পরিবারের আহাজারি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। অন্যদিকে স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গল দাবি করেন, পাকতিকা প্রদেশে একটি পরিবারের বাড়িতে বোমা পড়লে একই পরিবারের ছয় সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেন, প্রথম দফার হামলার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে গেলে একই এলাকায় দ্বিতীয়বার বিমান হামলা চালানো হয়। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।

পাকিস্তানের অবস্থান

এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, এই অভিযান বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, করাচিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সহযোগী গোষ্ঠী জামাত-উল-আহরারের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ২৯ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও তালেবান সরকারের বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সীমান্ত পরিস্থিতি

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে তালেবান সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলার পর এই সর্বশেষ বিমান অভিযানকে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ভূখণ্ড কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়। অন্যদিকে পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা এলাকায় জঙ্গি উপস্থিতির অভিযোগ তুলে নিয়মিত সামরিক অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়ে আসছে।

Next News Previous News