মেসির গোল টেনে ফিফার কাছে অভিযোগ ব্রাজিলের
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের ম্যাচে ভিনিসিউস জুনিয়রের বাতিল হওয়া গোল নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুধু ম্যাচের ফল নয়, রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি গোলের আগের বিতর্কিত ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স যেমন আলোচনায় ছিল, তেমনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ভিনিসিউস জুনিয়রের বাতিল হওয়া গোল। ব্রাজিলের দাবি, একই ধরনের দুটি ঘটনায় দুই ম্যাচে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
কেন বাতিল করা হয়েছিল ভিনিসিউসের গোল?
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ২২তম মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার জ্যাক হেনরির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে জালে বল পাঠান ভিনিসিউস জুনিয়র। শুরুতে গোলটি বৈধ বলেই মনে হচ্ছিল। তবে ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) রিপ্লে পর্যালোচনার পর মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোস গোলটি বাতিল করেন।
রেফারির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বল দখলের আগে ভিনিসিউস পেছন দিক থেকে হেনরির ওপর ফাউল করেছিলেন। সেই কারণেই গোলটি গণ্য করা হয়নি। সিদ্ধান্তের পর মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, যা ম্যাচজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
সিবিএফের আপত্তি কোথায়?
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের মতে, ঘটনাটি ছিল বিতর্কিত এবং গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রয়োজনের তুলনায় কঠোর। তাদের দাবি, স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়দের আচরণ থেকেও মনে হয়নি যে তারা ফাউলের প্রত্যাশা করছিলেন বা গোল বাতিল হবে বলে ধারণা করেছিলেন।
সিবিএফ বলছে, এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তাই তারা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতিতে একক মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
মেসির গোল কেন টানল ব্রাজিল?
অভিযোগকে শক্তিশালী করতে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার ম্যাচের একটি ঘটনাও উল্লেখ করেছে। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসির গোলের আগে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি ট্যাকলে অস্ট্রিয়ার সাভের শ্লাগার মাটিতে পড়ে যান।
তবে ওই ঘটনায় রেফারি খেলা থামাননি। আক্রমণ অব্যাহত থাকে এবং পরবর্তীতে গোল করেন মেসি। ম্যাচের পর ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও গোলটি বহাল রাখা হয়।
ব্রাজিলের যুক্তি হলো, দুটি ঘটনায় বল দখলের সময় শারীরিক সংস্পর্শের অভিযোগ থাকলেও একটিতে গোল বাতিল হয়েছে, অন্যটিতে হয়নি। তাই তারা জানতে চায়, রেফারিংয়ের মানদণ্ড ঠিক কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
নকআউটে ব্রাজিলের সামনে জাপান
বিতর্কের মধ্যেও মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়েনি ব্রাজিলের। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। আক্রমণভাগের গতিময় ফুটবল এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ব্রাজিলকে শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর কাতারে রেখেছে।
রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল জাপান। ফলে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।
রেফারিং বিতর্কে নতুন প্রশ্ন
আধুনিক ফুটবলে ভিএআর প্রযুক্তি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করলেও, তার প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি থামেনি। ব্রাজিলের এই অভিযোগ বিশ্বকাপের রেফারিং মানদণ্ড নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ফিফা এ বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়, তা শুধু ব্রাজিল নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবল সংশ্লিষ্টদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: খেলার সময় ও রয়টার্সের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
