লেখায় অসামঞ্জস্যতা থাকায় পড়তে সমস্যা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী নুরের: রাশেদ খাঁন

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সংসদে বিল উত্থাপনের সময় পাঠে দেখা দেওয়া জড়তা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, এটি ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; বরং প্রস্তুতকৃত লেখার অসামঞ্জস্যতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁনের বক্তব্য কী

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর মূলত বিলের পাঠ্য অংশে বাক্যগত সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তার ভাষায়, “লেখাটাতেই ত্রুটি ছিল। পড়তে গিয়ে বাক্যের সামঞ্জস্যতা না পাওয়ায় তিনি আটকে গেছেন।”

তিনি আরও বলেন, পাঠের সময় নুর নিজেও বুঝতে পারছিলেন যে শব্দ ও বাক্যের মধ্যে মিল থাকছে না। এ কারণে সংসদে বিল উত্থাপনের সময় তার বক্তব্যে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। রাশেদ খাঁনের মতে, এটি একটি দাপ্তরিক বা প্রণয়নগত ভুল।

মন্ত্রীদের বক্তব্য কে প্রস্তুত করেন

বিএনপির এই নেতা বলেন, সাধারণত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা নিজেরা বক্তব্য লিখে সংসদে পড়েন না। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা কর্মকর্তারা প্রস্তুত করে তাদের সামনে উপস্থাপন করেন। তার মতে, এই ধরনের সমস্যা শুধু নুরুল হক নুরের ক্ষেত্রে নয়, অন্যদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে প্রতিমন্ত্রী হয়তো আগেই লেখাটি খেয়াল করার সুযোগ পাননি। পাশাপাশি সংসদে নতুন হওয়ায় অভিজ্ঞতার দিক থেকেও বিষয়টি তার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল।

তরুণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চ্যালেঞ্জ

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, নুরুল হক নুর বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম তরুণ সদস্য। নতুন দায়িত্ব, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং দাপ্তরিক প্রস্তুতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতেই পারে বলে তিনি মনে করেন।

পোস্টের শেষাংশে তিনি নুরের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ত্রুটি সংশোধন করে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশা করেন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

সংসদে বিল পাঠে আটকে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে রাশেদ খাঁনের এই ব্যাখ্যা ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতার বদলে প্রশাসনিক প্রস্তুতির ঘাটতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

উপসংহার

রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত সমালোচনার জায়গায় না নিয়ে একটি দাপ্তরিক ভুল হিসেবে দেখছেন। এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয় কি না।

Source: Based on reporting from যুগান্তর ডেস্ক and public Facebook statement by Rashed Khan.

Next News Previous News