ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় এফআইআর গ্রহণে লিগ্যাল নোটিশ

ডাকসু নেতা হামলা নিয়ে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর দুই সম্পাদকসহ কয়েকজন হল সংসদ নেতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা (এফআইআর) গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো এই নোটিশে বলা হয়েছে, শাহবাগ থানার ভেতরে সংঘটিত ঘটনাটি আমলযোগ্য অপরাধ হওয়ায় আইন অনুযায়ী পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে এফআইআর গ্রহণ করতে বাধ্য।

ঘটনার সূত্রপাত

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে তিনি শাহবাগ থানায় গেলে সেখানে উপস্থিত একদল নেতাকর্মী তাকে ঘিরে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রনেতা থানায় গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

হামলার অভিযোগ

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, থানার ভেতরে ঢোকার পর একাধিক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা চালান। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। হামলা থেকে বাঁচতে তারা থানার একটি কক্ষে আশ্রয় নিলেও সেখানে গিয়ে আবারও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে তারা মেডিকেল সনদ সংগ্রহ করেন।

এফআইআর গ্রহণে অনীহা অভিযোগ

নোটিশে দাবি করা হয়, চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগীরা ২৬ এপ্রিল শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে গেলে তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা এবং পুলিশ রেগুলেশন অনুযায়ী আইনবিরোধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে মামলা গ্রহণ করবে।

কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ

লিগ্যাল নোটিশটি জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে দ্রুত এফআইআর গ্রহণ এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য

ডাকসুর এক সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, থানার ভেতরে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মামলা গ্রহণে গড়িমসি করাকে তিনি আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

অন্য এক নেতা বলেন, আইন অনুযায়ী অভিযোগ গ্রহণ করা পুলিশের বাধ্যবাধকতা হলেও তাদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি, যা উদ্বেগজনক।

বিশ্লেষণ

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে এফআইআর গ্রহণ করা পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক। এ ধরনের অভিযোগ উপেক্ষা করা হলে তা আইনি প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এমন ঘটনা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে থানার ভেতরে হামলার অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপসংহার

ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং এফআইআর গ্রহণে অনীহার বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। দ্রুত তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News