জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল পাশ, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন
জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সংশোধন বিল। বিলটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রাখা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
সংসদে কী ঘটেছে
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিলের ওপর দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে আপত্তি তুললেও তিনি নির্দিষ্ট কোনো ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দেননি। ফলে স্পিকার আপত্তির বিষয়টি ভোটে তোলেননি।
জামায়াতের আপত্তির মূল বিষয়
জামায়াতের সংসদ সদস্যরা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বলেন, বর্তমান অবস্থায় বিলটি পাস হলে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর নাম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনে বহাল থাকবে, যা তাদের মতে রাজনৈতিকভাবে অযৌক্তিক।
তাদের দাবি ছিল, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধ’-এর সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা উচিত। তারা আরও উল্লেখ করেন, ২০০২ সালে প্রণীত আইনে রাজনৈতিক দলগুলোকে এভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।
এনসিপির অবস্থান
বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপি স্পিকারকে লিখিতভাবে জানায় যে বিলটির ওপর তাদের কোনো আপত্তি নেই। ফলে সংসদে জোটের ভেতরেই অবস্থানগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিলে কী আছে
সংশোধিত আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী বেসামরিক নাগরিক, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স, বিএলএফ এবং অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনীর সদস্যরা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।
একই সঙ্গে আইনে মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দেশীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত স্বাধীনতার যুদ্ধ।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সহযোগী বাহিনী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয়। এই বিল সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ইতিহাসের ভাষ্য ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে সংসদে আলোচনা আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
উপসংহার
জামুকা সংশোধন বিল পাসের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আইনি সংজ্ঞা ও ঐতিহাসিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে জামায়াতের আপত্তি এবং এনসিপির সমর্থনের ভিন্নতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে এই ইস্যুতে ভবিষ্যতে আরও কোনো সংশোধনী বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না।
Source: Based on reporting from যুগান্তর and proceedings of the National Parliament session.
