তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণার দাবি
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের ১১তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর দুই সন্তান—তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজন, কোনও রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয়। ([jugantor.com](https://www.jugantor.com/politics/2026/04/08/tarek-arafat-child-freedom-fighter-demands))
বন্দি জীবন ও দেশপ্রেমের প্রতীক
মুজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ৯ মাস বন্দি থাকার পরও জিয়া পরিবার অসীম ধৈর্য এবং দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া তখন তার দুই সন্তানসহ বন্দি ছিলেন, এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো সেই দুঃসহ সময় পার করেছেন। তিনি বলেন, “এটি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, এটি ইতিহাসের সত্য।” ([jugantor.com](https://www.jugantor.com/politics/2026/04/08/tarek-arafat-child-freedom-fighter-demands))
শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি
মুজিবুর রহমান আরও বলেন, প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। এছাড়া ৯ মাস বন্দি জীবন কাটানো তারেক ও আরাফাতকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়াও এখন সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমেছিল তারেক রহমানের দেশপ্রেম ও যুগান্তকারী আহ্বানে সাড়া দিয়ে, এবং ইতিহাসের প্রতিটি ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ
মুজিবুর রহমান প্রাক্তন সংসদ সদস্যের ভাই আরাফাত রহমান কোকোর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় বেদনাবিধুর উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শৈশবে যুদ্ধের ময়দানে বন্দি থাকা থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া—সবই তার জীবনের অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রস্তাব করা হচ্ছে শুধুমাত্র ইতিহাসের সঠিক স্বীকৃতির জন্য, প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য নয়।
বাংলাদেশের পাঠকদের প্রাসঙ্গিকতা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশু বয়সে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ প্রদর্শনকারী ব্যক্তিদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া দেশের ইতিহাস ও সাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করবে। এছাড়া এটি নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মূল্য বোঝার একটি শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
উপসংহার
মুজিবুর রহমানের দাবি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি শুধু পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের সঠিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইতিহাসের প্রতিটি ত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি দেশের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ([jugantor.com](https://www.jugantor.com/politics/2026/04/08/tarek-arafat-child-freedom-fighter-demands))
Source: Based on reporting from Jugantor Online.
