সরকার চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৪২ দিনে দেশে কোনো গুম বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। বিলটির ওপর আপত্তি জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতির পথে যেতে পারত, কিন্তু তারা সেই পথ বেছে নেয়নি।
গুম ও ক্রসফায়ার নিয়ে সরকারের অবস্থান
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় না আর কোনো পরিবার গুম বা কথিত ক্রসফায়ারের মতো ঘটনার শিকার হোক। তার ভাষায়, “আমরা চাই না আর কোনো মা তার সন্তানকে ক্রসফায়ারের নামে হারান কিংবা গুমের শিকার হন।” তিনি এটিকে সরকারের মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় এসে চাইলে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারত, তবে তারা আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথেই এগোচ্ছে।
মানবাধিকার কমিশন আইনে ত্রুটির অভিযোগ
মন্ত্রী ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওই অধ্যাদেশে তদন্ত প্রক্রিয়া, জরিমানা নির্ধারণ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না। এছাড়া কমিশন নিজেই মামলা দায়ের করতে পারত, যা নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছিল।
এই অস্পষ্টতা দূর করতেই আপাতত ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল করা হয়েছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে নতুন আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করার কথা বলেন।
গুম কমিশন ও আইনি সংজ্ঞা
গুমকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য অপরাধ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ‘গুম কমিশন’ সংক্রান্ত সংজ্ঞা ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ছিল, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারত।
তার মতে, যেকোনো আইন দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকার উপযোগী হতে হবে এবং তা পক্ষপাত বা গোপন উদ্দেশ্যে তৈরি করা হলে শুরু থেকেই তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক বার্তা ও তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুধু মানবাধিকার কমিশন বিলের ব্যাখ্যা নয়, বরং বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরছে। বিশেষ করে গুম, ক্রসফায়ার এবং মানবাধিকার ইস্যুতে অতীতের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে নতুন আইন প্রণয়নে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলা বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কারের আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
উপসংহার
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে সরকার দ্রুততার চেয়ে গ্রহণযোগ্যতা ও স্থায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়। এখন নজর থাকবে নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া কবে আসে এবং তা সংসদে কতটা ঐকমত্যের ভিত্তিতে পাস হয়।
Source: Based on reporting from যুগান্তর and proceedings of the National Parliament session.
