রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি ‘জুলাই ঐক্য’র
ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করে পদ থেকে অপসারণ এবং তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠক ফাহিম ফারুকী।
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ
লিখিত বক্তব্যে ফাহিম ফারুকী বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র’ করেছেন বলে তারা মনে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি একাধিকবার সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিকে দুটি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা জুলাই সনদের শপথ গ্রহণ করেনি। এর পরিবর্তে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গ
সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই ঐক্য’ দাবি করে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে সংগঠনটি দাবি করে, সেখানে রাষ্ট্রপতি বলেছেন যে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘জুলাই ঐক্য’ বঙ্গভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল। অথচ সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে।
সরকারকে সতর্কবার্তা
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই জুলাইয়ের আত্মত্যাগ অস্বীকার করা হলে এর পরিণতি ভালো হবে না বলে তারা সতর্ক করেন।
এ সময় যারা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, তাদের দ্রুত শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাইয়ের বিভিন্ন সংগঠনকে সক্রিয় ও একীভূত করার লক্ষ্যে আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত সংগঠন সংগ্রহ কার্যক্রম চালানোর ঘোষণাও দেয় ‘জুলাই ঐক্য’।
