জুয়েলারি দোকানে ডাকাতির ঘটনায় আরও ২ জন গ্রেপ্তার

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি বাজারে একটি জুয়েলারি দোকানে সংঘটিত আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশ জানিয়েছে, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সাতজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের কিছু অংশও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিতপাড়া এলাকার আব্দুল করিম (৩৪) এবং মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম রফিক (৪০)। তাদের মধ্যে আব্দুল করিম বর্তমানে ঢাকার সাভার এলাকায় বসবাস করছিলেন।

রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিত ডাকাতি

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি ভোরের দিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি বাজারের স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘মন্ডল জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণের দোকানে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ৭ থেকে ৮ জনের একটি মুখোশধারী দল মাইক্রোবাসে করে এসে প্রথমে দোকানের নৈশপ্রহরী ভুট্টু হোসেনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তারা দোকানের সিন্দুক বাইরে এনে ভেঙে ফেলে এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়।

ডাকাতরা প্রায় ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ৬ লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে এবং পরদিনই বিষয়টি থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

সিসিটিভি ও প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত

ডাকাতির পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে কয়েকজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাদের ধরতে বিভিন্ন জেলায় অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে আব্দুল করিমকে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে এবং রফিকুল ইসলাম রফিককে মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে স্বীকারোক্তি

গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে দুজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুরো লুট হওয়া সম্পদ এখনো উদ্ধার হয়নি।

মূল হোতারা এখনও পলাতক

ডিবি পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, তদন্ত এগোলে ডাকাত চক্রের আরও সদস্যের নাম সামনে আসতে পারে এবং লুট হওয়া স্বর্ণের বাকি অংশও উদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘটনার পর থেকে বাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next News Previous News