লেবাননে এক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত ৫ লাখের বেশি মানুষ
লেবাননে সংঘাতে বাস্তুচ্যুত ৫ লাখের বেশি মানুষ, বৈরুতেও হামলা জোরদার
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ের কারণে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
রোববার (৮ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে লেবাননের সমাজকল্যাণমন্ত্রী হানিন সায়েদ বলেন, সরকারি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫ লাখ ১৭ হাজারে পৌঁছেছে। তিনি জানান, গত সোমবার থেকে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর এই মানুষগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ
মন্ত্রী হানিন সায়েদ জানান, নিবন্ধিত বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে অন্তত ১ লাখ ১৭ হাজার ২৮ জন বর্তমানে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা লেবাননের সীমিত সম্পদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
বৈরুতেও হামলা, সংঘাত আরও তীব্র
লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইল তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে। প্রথমবারের মতো রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে সংঘাতে মোট ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৮৩ জন শিশু, ৪২ জন নারী এবং অন্তত ৯ জন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন।
রাউশে ড্রোন হামলা
রোববার ভোরে বৈরুতের সমুদ্রতীরবর্তী রাউশ এলাকায় একটি হোটেলে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই এলাকা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এবং সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা বহু লেবানিজ নাগরিকও এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ওই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইসরাইলের দাবি: কুদস ফোর্সের কমান্ডার নিহত
অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–এর বিদেশি শাখা কুদস ফোর্সের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কমান্ডাররা লেবাননে অবস্থান করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এ দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মানবিক সংকটের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে চলমান সংঘাত শুধু সামরিক উত্তেজনাই নয়, বরং একটি বড় মানবিক সংকটও তৈরি করছে। ব্যাপক সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি, অবকাঠামো ক্ষতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে এবং জরুরি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত বন্ধ না হলে লেবাননের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
Source: Based on reporting from international media and statements from Lebanon’s Social Affairs Ministry.
