রাজশাহীতে আ. লীগ কার্যালয়কে ‘মুজিব পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণা

রাজশাহীতে পরিত্যক্ত একটি রাজনৈতিক কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যালয়ের ধ্বংসস্তূপে একটি ব্যানার টানিয়ে সেটিকে ‘মুজিব পাবলিক টয়লেট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংগঠনটির রাজশাহী জেলা শাখার আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজুসহ কয়েকজন নেতা সেখানে একটি ব্যানার টানিয়ে এই ঘোষণা দেন। ব্যানারে লেখা ছিল— ‘মুজিব পাবলিক টয়লেট। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৭ বছরের ক্ষোভ ঝাড়ুন। সৌজন্যে: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাজশাহী।’

সংগঠনের বক্তব্য

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, তাদের মতে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভূমিকা শেষ হয়ে গেছে এবং জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দলটি ক্ষমতা থেকে সরে গেছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দলটির কিছু নেতাকর্মী আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা তারা প্রতিরোধ করতে চান।

তিনি আরও বলেন, পরিত্যক্ত ওই স্থাপনাটি ভবিষ্যতে জনসাধারণের কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে এমন কোনো ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার চিন্তা করা হচ্ছে।

পূর্বের ঘটনার প্রেক্ষাপট

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়টি বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় ভেঙে ফেলা হয়। পরে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদী নিহত হওয়ার ঘটনার পর উত্তেজিত ছাত্র-জনতা অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করে দেয় বলে স্থানীয়রা জানান।

এর ফলে ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

নতুন ব্যানার ঘিরে প্রতিক্রিয়া

ধ্বংসস্তূপের সামনে গত সপ্তাহে রাতে কে বা কারা একটি ‘উদ্বোধনী’ ব্যানার টানিয়ে দেয়। তবে পরদিন সকালে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সেটি ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যরা বলছেন—এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

স্থানীয়দের মতামত

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পরিত্যক্ত জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। কেউ কেউ চান, সেখানে জনসাধারণের জন্য উপযোগী কোনো স্থাপনা তৈরি হোক। তবে রাজনৈতিক ব্যানার বা প্রতীক ব্যবহারের পরিবর্তে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহীর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, জনমত এবং ভবিষ্যতে ওই স্থাপনার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News