হবিগঞ্জে জ্বালানি তেলের সংকট
হবিগঞ্জ জেলার ফিলিং স্টেশন ও খুচরা বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, যা বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেট গাড়ির চালক ও যাত্রীদের জন্য অসুবিধা তৈরি করছে। সরকারি নিয়মে নির্ধারিত সীমার মধ্যে তেল সরবরাহ করা হলেও অনেক ফিলিং স্টেশন এবং খুচরা দোকান তা মানছে না এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
সংকটের প্রকৃতি ও দৈনিক চাহিদা
হবিগঞ্জ জেলার মোট ১৯টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের চাহিদা মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার লিটার। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩০.৬ শতাংশ। এতে প্রতিদিন অকটেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে প্রায় ১৮ হাজার লিটার, পেট্রোলের ৩০ হাজার লিটার এবং ডিজেলের ১ লাখ ৪৩ হাজার লিটার। এ পরিস্থিতি জেলার মোট চাহিদার প্রায় ৬৯.৪ শতাংশের সমান।
সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণের সমস্যা
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট গাড়ির জন্য ১০ লিটার এবং অন্যান্য যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ফিলিং স্টেশনগুলো অর্ধেকের বেশি তেল দিতে পারছে না। খুচরা দোকানে লিটার প্রতি তেলের দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের থেকে ৩০-৪০ টাকা বেশি। এর ফলে চালক ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
সদর উপজেলার বাসিন্দা সমীরণ চত্রবর্তী বলেন, "তেল বিক্রির নির্ধারিত নিয়ম মানছেন না ব্যবসায়ীরা। খুচরা দোকানে দামও রাখা হচ্ছে বেশি, যা জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে।" চুনারুঘাট উপজেলার মনছুর আলী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না, বিশেষ করে খুচরা দোকানে অভিযান প্রয়োজন।
ফিলিং স্টেশন ও খুচরা দোকানিরা দাবি করেছেন, ক্রয়মূল্য বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান চৌধুরী হেলাল জানিয়েছেন, জেলার দুইটি কূপ থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়, তবে রেশনিং পদ্ধতির কারণে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রশাসনের তদারকি
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে তেল বিক্রি করা যাবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে তেল সরবরাহের পরিস্থিতি শীঘ্রই স্থিতিশীল হবে।
উপসংহার
হবিগঞ্জের বাসিন্দা ও পরিবহন চালকরা তেলের ঘাটতির কারণে দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন। তেলের রেশনিং, সীমিত সরবরাহ এবং বাজারে অতিরিক্ত মূল্য প্রদানের কারণে সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মনিটরিং এবং কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।
Source: Based on reporting from কালের কণ্ঠ
