যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে রেকর্ড তুষারপাত, ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে রেকর্ড তুষারপাত, ৫ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে বিরল মাত্রার শীতঝড় ও রেকর্ড তুষারপাত পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যাহত করেছে। শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই তুষারঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে East Coast of the United States–এর বৃহৎ শহরগুলো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার বড় অংশই বাতিল হয়েছে নিউইয়র্ক, বোস্টন ও শিকাগোর ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলো থেকে।

শীতঝড়ে ভেঙে পড়ল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে একদিনেই ৩০–৪৫ সেন্টিমিটার তুষার জমেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। রাস্তাঘাট বন্ধ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং জনজীবনে স্থবিরতা তৈরির কারণে জরুরি সেবাগুলোকে বাড়তি চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যালয় ও সরকারি দপ্তর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিমান চলাচলে ব্যাপক অচলাবস্থা

ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি Federal Aviation Administration (FAA)–এর নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরগুলোতে দেখা গেছে। শুধু নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক ও লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজারো যাত্রী আটকা পড়েন। শিকাগোর ও’হারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও তীব্র বাতাস ও বিপজ্জনক দৃশ্যমানতার কারণে বিমান ওঠানামা বন্ধ ছিল বেশ কিছু সময়।

যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে

ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি অনেক যাত্রীর টিকিট পুনরায় বুকিং করতে সমস্যায় পড়ছেন। কয়েকটি বিমান সংস্থা যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে। তবে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার আশা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবার ও কর্মজীবনে প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, তুষারঝড়ের কারণে কাজের জায়গায় পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে, এমনকি ঘর থেকে বের হওয়াও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রেমিট্যান্স-নির্ভর পরিবারের জন্য কাজের ব্যাঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেশ কিছু বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকানও নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষণ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কি বাড়ছে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবে এ ধরনের চরম তুষারঝড়ের ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। তাপমাত্রা ওঠানামার অস্বাভাবিকতা এবং আর্দ্রতার মাত্রা বাড়ায় তুষারঝড় আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ফলে পরিবহন, বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে।

উপসংহার

রেকর্ড তুষারপাত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ অঞ্চলে জনজীবনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং বিমান চলাচলে অস্বাভাবিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আবহাওয়ার উন্নতি ও জরুরি সেবার সমন্বিত তৎপরতা প্রয়োজন হবে। আসন্ন দিনগুলোতে তুষারঝড়ের প্রভাব আরও বাড়বে নাকি কমবে—তা নির্ভর করবে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল অবস্থার ওপর।

Next News Previous News