বিজয় আমাদের হয়েই গেছে: নুর
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল ইতোমধ্যেই জনগণের রায়ে নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং নির্ধারিত ভোটের দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
রোববার রাতে দশমিনার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে হযরত গেদু শাহ চিশস্তি (রহ.)–এর ৪৯তম বাৎসরিক ওরশ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি রাজনীতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার
নুরুল হক নুর বলেন, তিনি রাজনীতিকে মানুষের কাছাকাছি থাকার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, “আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই এবং তাদের নিয়েই কাজ করতে চাই।” তিনি মনে করেন, রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব কেবল নির্বাচনের সময় নয়, বরং প্রতিদিন সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত থাকা।
তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ইসলামী দলের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
দশমিনা ও গলাচিপাকে ‘রোল মডেল’ গড়ার পরিকল্পনা
দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলাকে রাজনৈতিক সম্প্রীতির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা। তিনি বলেন, এসব এলাকায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পারস্পরিক সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চা গড়ে তোলা সম্ভব।
তার মতে, ওয়াজ মাহফিল, দোয়া মাহফিল ও ওরশের মতো ধর্মীয় আয়োজন বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এসব আয়োজনে অংশগ্রহণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহনশীলতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর জোর
গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাউকে জোরপূর্বক বাধা দেওয়া, হামলা চালানো বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার রাজনীতিতে তার দল বিশ্বাস করে না।
তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে ওঠে, যেখানে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সবাই নিরাপদে নিজ নিজ অধিকার চর্চা করতে পারে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
চাঁদাবাজি ও জনভোগান্তির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে নুর বলেন, উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষসহ সব ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—ব্যবসা পরিচালনার জন্য কাউকে কোনো ধরনের চাঁদা দিতে হবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তার দলের কেউ যদি চাঁদাবাজি বা জনভোগান্তির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক বার্তা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া এই বক্তব্যের মাধ্যমে নুরুল হক নুর স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করার পাশাপাশি নির্বাচনী বার্তাও স্পষ্ট করেছেন। বিজয় নিশ্চিতের দাবি সমর্থকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ওরশ মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি ছিল, যা অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও স্থানীয় আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Source: Based on reporting from Desh TV
