মোসাব্বির হত্যা: শুটার জিন্নাতের দায় স্বীকার, তিনজন রিমান্ডে

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় একটি নতুন মাইলফলক এসেছে। এই মামলায় একজন আসামি দায় স্বীকার করেছেন, এবং তিনজনকে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দায় স্বীকার ও জবানবন্দি

সোমবার বিকেলে মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুটার মো. জিন্নাত দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রিমান্ডে নেওয়া অন্য তিন আসামি হলেন মূল পরিকল্পনাকারী মো. বিল্লাল, তার ভাই মো. আব্দুল কাদির এবং মো. রিয়াজ। আদালত তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এই রিমান্ডের মাধ্যমে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

আসামিদের বক্তব্য

আবদুল কাদির আদালতে জানান, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি ওই সময় অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আরেক আসামি রিয়াজ দাবি করেন, তাকে একটি ফোন কলের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। মামলার রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন, তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

ঘটনার পটভূমি

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে দুর্বৃত্তরা মোসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনায় মোসাব্বির নিহত হন এবং অপর একজন সুফিয়ান বেপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে গুরুতর আহত সুফিয়ান উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন।

পরবর্তী দিনে নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশের অনুসন্ধানে ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলা থেকে চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মোসাব্বির হত্যার প্রেক্ষাপট

প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিবাদ থেকে এ ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পুলিশ ও তদন্তকারীরা বলছেন, রিমান্ড প্রাপ্ত আসামিদের জবানবন্দি ও আরও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement