এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসনে এনসিপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাসের। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে চলা জোটগত টানাপোড়েনের অবসান হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আসনটির নির্বাচনি পরিচালক ও নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী। তবে অসুস্থতার কারণে জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাসের নিজে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

জোটের স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত

সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের স্বার্থে জামায়াত তাদের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করে এনসিপির প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। তিনি জানান, ডা. আবু নাসের কয়েক দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করায় এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, “জোটের ঐক্য ও বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা

এ সময় নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইলাম এবং দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরীসহ দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জোটগত সিদ্ধান্তের প্রতি দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগের অসন্তোষ ও অভিযোগ

উল্লেখ্য, ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সমঝোতা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপির জন্য ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় জোটের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত মঙ্গলবার রাতে, যখন এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাসেরের বিরুদ্ধে জোটের সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ তোলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত জামায়াতের এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ১০ দলীয় জোটের ভেতরে ঐক্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর নির্বাচনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

চট্টগ্রামের এই আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। ফলে জোটের সমর্থন একত্রিত হলে ভোটের ফলাফলে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: আমার দেশ অনলাইন

Next Post Previous Post

Advertisement