‎শাহজালালের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন। বুধবার রাতে সিলেট সফরের অংশ হিসেবে তিনি মাজারে মোনাজাতে অংশ নেন এবং পরে সেখানে অবস্থিত মসজিদে ইশার নামাজ আদায় করেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই সফর কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আসন্ন জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাও বহন করছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে তারেক রহমান ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও ব্যক্তিগত কর্মসূচি

মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমান সেখানকার মসজিদে ইশার নামাজ আদায় করেন। সফরসূচি অনুযায়ী, রাতেই তিনি সিলেটের বিরাইমপুর গ্রামে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের পাশাপাশি একটি পারিবারিক আয়োজনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দোয়া করেছেন। সিলেট অঞ্চল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, এখানে সফরকে দলের ভেতরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বার্তা ও সিলেটের গুরুত্ব

সিলেট শুধু একটি ধর্মীয় নগরী নয়, এটি বিএনপির রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। দলীয় সূত্র বলছে, সিলেট থেকেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমানের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালোভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে ঐক্য ও সহমর্মিতার বার্তা দিতে চেয়েছেন। সিলেটের মতো অঞ্চলে এ ধরনের সফর ভোটের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি

দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমান সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে একটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এই সমাবেশে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে দলের রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনকালীন কৌশল এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেটে তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি মাঠপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।

সব মিলিয়ে, শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হওয়া তারেক রহমানের সিলেট সফর ধর্মীয়, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক—তিনটি মাত্রাকেই একসঙ্গে ধারণ করছে। আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement