চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত, ৩ সদস্য জিম্মি

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত, ৩ সদস্য জিম্মি

চট্টগ্রাম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় তিন র‌্যাব সদস্যকে জিম্মি করে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে।

আহত র‌্যাব সদস্যকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু

জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। নিহত র‌্যাব সদস্যের নাম মোতালেব। তিনি ডিএডি পদমর্যাদায় র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন।

র‌্যাবের একটি দল পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের অংশ হিসেবে অভিযানে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে এক র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সন্ত্রাসীরা ৩ র‌্যাব সদস্যকে করে জিম্মি

র‌্যাব সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একই ঘটনায় তিন র‌্যাব সদস্যকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে রাখে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সিরাজুল ইসলাম।

সীতাকুণ্ড থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) জাফর আহমদ ভূঁইয়া বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে আছি। ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।”

জঙ্গল সলিমপুর: সন্ত্রাসী আশ্রয় ও দখলকৃত পাহাড়ি এলাকা

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে হাজারো অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।

এলাকাটি এখনো সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ। জঙ্গল সলিমপুরের মোট আয়তন প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর। জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, লিংক রোড সংলগ্ন এই এলাকায় প্রতি শতক জমির বাজার মূল্য ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা।

এর ফলে দখলকৃত সরকারি খাসজমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেন। এই বিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চলছে বলে মনে করা হয়।

অভিযান চালানোর সময়ে বাধা, হামলার ইতিহাস

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ আরও বাড়ে। পাহাড় দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর আগে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ সালেও র‌্যাব, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করলেই পাহারাদারদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আগাম খবর পেয়ে যায়। এরপর পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ফলে এককভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

উন্নয়ন প্রকল্প আটকে, জমি উদ্ধার না হওয়ায় ব্যাহত

জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমিতে কারাগার, আইটি পার্কসহ অন্তত ১১টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও জমি উদ্ধার না হওয়ায় এসব প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

Source: Based on reporting from bd24live

Next Post Previous Post

Advertisement