ভোটে যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে

১৫ বছর জনগণকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

বাংলাদেশে গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কখনো রাতের ভোট, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচন, আবার কখনো ভুয়া ও ডামি ভোটের মাধ্যমে জনগণকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ভোটে বাধা দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

আইন উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যেক নাগরিক যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিতে পারবেন। কাউকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হবে না। যদি কেউ ভোটে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে সে আগের স্বৈরাচারী শাসনের পথেই হাঁটবে।

তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবেই সেই ধরনের শাসনের পুনরাবৃত্তি করতে চায় না এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে জনগণের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে চায়।

১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে

ড. আসিফ নজরুল বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে দূরে রেখে ক্ষমতা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে। এই সময়ে জনগণের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অবৈধভাবে ভোগ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।

২০২৬ সালের নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গণভোট কেন জরুরি

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের বড় ধরনের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য থাকলেও জনগণের মতামত নেওয়া এখনো বাকি ছিল।

তিনি বলেন, জনগণের মতামত জানার উদ্দেশ্যেই এই গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। এখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—দুটি বিকল্প থাকবে। যারা সংস্কারের পক্ষে, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আর যারা আগের শাসনব্যবস্থা বজায় রাখতে চান, তারা ‘না’ ভোট দেবেন।

অতীতের দমননীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান

বিগত সরকারের সমালোচনা করে আইন উপদেষ্টা বলেন, অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘর ও গায়েবি মামলার মতো দমনমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এমনকি ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল।

সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Source: Based on reporting from local administration briefings and national media

Next Post Previous Post

Advertisement