ঈদগাঁওয়ে আ.লীগ নেতা সোহেলের বিএনপির জন্য ভোট প্রার্থনা
আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপির পক্ষে ভোট প্রার্থনায় ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিক্রিয়া
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা, জুলাই হত্যা মামলার আসামি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহেল জাহান চৌধুরীর বিএনপির জন্য প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনার ঘটনায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল রোববার রাতে ঈদগাঁও বাজারস্থ নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি কক্সবাজার-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করেন।
ওই বৈঠকে আওয়ামী সরকার পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে পুলিশের গ্রেপ্তার থেকে রক্ষায় সহযোগিতা করেছেন—এমন বক্তব্যও তুলে ধরা হয়।
তার বিএনপির পক্ষে ভোট প্রার্থনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-জনতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুরোনো ভূমিকার ভিডিও ছড়িয়ে পড়া
প্রতিক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী নেটিজেনরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি-জামায়াতবিরোধী অবস্থান এবং জুলাই আন্দোলনে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাধাদানের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ নতুন করে প্রচার করতে শুরু করেন।
প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, পলাতক উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু তালেবের উপস্থিতিতে ঈদগাঁও বাসস্টেশনে তিনি প্রকাশ্যে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঘর থেকে খুঁজে বের করে শাস্তির হুংকার দিচ্ছেন এবং জুলাই আন্দোলনে বাধা দিচ্ছেন।
একাধিক মামলা ও অপসারণ
সোহেল জাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে থানায় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
জুলাই-পরবর্তী সময়ে তৎকালীন বহুল আলোচিত ইউএনও তাকে অনুপস্থিতির অজুহাতে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেন।
জুলাইযোদ্ধার ক্ষোভ
জুলাইযোদ্ধা এস কে আহমদ ফারুকী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সোহেল জাহান চৌধুরী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে বিএনপি-জামায়াতকে খুঁজে খুঁজে মারার হুংকার দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় নিজের সামনে ছাত্র-জনতাকে লাঠিপেটা করার ঘটনাও রয়েছে। এমন একজন চিহ্নিত ফ্যাসিবাদের দোসর ও জুলাই আন্দোলনবিরোধী ব্যক্তিকে ভোটের আশায় বিএনপিতে আশ্রয় দেওয়া কীভাবে সম্ভব—তা ছাত্র-জনতাকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।
