বিএনপি জোটের জমিয়ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়বেন খালেদা জিয়ার ভগ্নিপতি

নীলফামারীর দুই আসনে জিয়া পরিবারের আত্মীয়দের মুখোমুখি লড়াই

নীলফামারীর দুই আসনে জিয়া পরিবারের আত্মীয়দের মুখোমুখি লড়াই

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে বিএনপি জোটের জমিয়ত মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোনের স্বামী ও তার ভগ্নিপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।

অপরদিকে নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খালেদা জিয়ার বড় বোনের ছেলে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী।

জেলার এই দুই আসনে জিয়া পরিবারের আত্মীয়—পিতা ও পুত্রের এমন নির্বাচনী লড়াই ভোটারদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেক ভোটারের মতে, জোটকে বিব্রত করতে এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে তারা এভাবে নির্বাচনে নেমেছেন।

ভোটারদের দ্বিধা ও বিভক্তি

নীলফামারী-১ আসনের বিএনপির সাধারণ ভোটাররা এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন। তারা ভোট দেবেন বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীকে, নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদা জিয়ার ভগ্নিপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে—এ নিয়ে বিভক্তি স্পষ্ট।

স্থানীয় বিএনপির একাংশ জোট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিলেও আরেকটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের পক্ষে কাজ করছে।

মনোনয়ন ও প্রার্থিতা জটিলতা

জানা যায়, নীলফামারী-১ আসনটি বিএনপি জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমিয়তের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে বিএনপির নির্ধারিত প্রার্থী তারেক রহমানের খালাতো ভাই অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহরিন ইসলাম চৌধুরীকে নীলফামারী-২ আসনে প্রার্থী করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী নীলফামারী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিলেও একাধিক তথ্য অসঙ্গতির কারণে জেলা রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বাতিল করেন।

পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে।

লড়াইয়ের ঘোষণা

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তিনি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

তিনি বলেন, “এটি আমার জন্য একটি প্রেস্টিজ ইস্যু।” উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন।

এবার তিনি নীলফামারী-১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Next Post Previous Post

Advertisement