ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার দাবিকে ঘিরে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিজাত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ডেল্টা ফোর্স এই অভিযান চালিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। ব্যাপক সামরিক হামলার পর প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে—এমন তথ্য শনিবার (৩ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকার একে সরাসরি ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ডেল্টা ফোর্সের অভিযানের দাবি

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স—যা দেশটির সেনাবাহিনীর অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট—এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে। হামলার পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি। অভিযানের ধরন, সময়কাল কিংবা মাদুরোর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাম্পের ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এই অভিযানের কথা জানান। তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলা এবং দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। অভিযানে মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তিনি স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণাও দেন।

ভেনেজুয়েলার কড়া প্রতিক্রিয়া

ভেনেজুয়েলা সরকার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যে চরম ন্যাক্কারজনক সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, তারা বিশ্ববাসীর সামনে এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করবে এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তুলবে।

হামলার পটভূমি ও সামরিক প্রস্তুতি

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ভেনেজুয়েলার ভেতরে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক উৎপাদন ও তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের অভিযোগ তোলে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়। প্রথমে সমুদ্রপথে নৌযানে হামলা চালানো হয় এবং পরে সরাসরি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সত্যিই কোনো দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। এতে লাতিন আমেরিকা ছাড়াও বৈশ্বিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

উপসংহার

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার দাবি সত্য কি না—তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও ভেনেজুয়েলার তীব্র প্রতিবাদ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আনুষ্ঠানিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববাসী।

Source: Based on reporting from CBS News and Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement