ভেনেজুয়েলার পাশে থাকার ঘোষণা রাশিয়ার
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনার পর দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বের পাশে রয়েছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অবস্থানকে সমর্থন করবে। রাশিয়ার এই ঘোষণায় লাতিন আমেরিকায় নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায় এবং সতর্ক করে বলে, ভেনেজুয়েলায় চলমান পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব পড়তে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরের দিকে কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের পর যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মার্কিন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় হামলার পক্ষে যে যুক্তি বা অজুহাত দেখানো হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। মস্কো মনে করে, এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতির পরিপন্থী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদর্শগত বিরোধ ও শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি বাস্তব সমাধানের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।
রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, চলমান সংকটের একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে কূটনৈতিক সংলাপ। তারা দাবি করেছে, বিরোধ মেটাতে রাজনৈতিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার বিকল্প নেই এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক উদ্যোগে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো।
বলিভারিয়ান নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন
বিবৃতিতে রাশিয়া ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেছে, দেশটির জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির যে পথ বলিভারিয়ান নেতৃত্ব অনুসরণ করছে, তার প্রতি তারা পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। বলিভারিয়ান আদর্শ মূলত স্বাধীনতানায়ক সিমোন বলিভারের প্যান-আমেরিকান ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক ধারা, যেখানে সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের মিশ্রণ দেখা যায়।
ভেনেজুয়েলার সরকার দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এসব চাপকে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে, আর রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো কারাকাসের অন্যতম কূটনৈতিক ও কৌশলগত মিত্র।
কারাকাসে রুশ দূতাবাসের পরিস্থিতি
কারাকাসে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, তারা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত রুশ নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো রুশ নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশের নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটকের দাবির মতো বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য
ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার এই অবস্থান বৈশ্বিক রাজনীতিতে শক্তিধর দেশগুলোর প্রতিযোগিতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বড় শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানি সরবরাহ এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যদি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে না যায়, তবে লাতিন আমেরিকায় অস্থিতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online and international media reports including statements from the Russian Foreign Ministry.
