বিক্ষোভে ‘হাজারো হত্যার’ পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জড়িত : খামেনি

তেহরান — ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ এবং সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাত থাকার অভিযোগ করেছেন। খামেনির দাবি, এই দুই দেশের উদ্দেশ্য ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা তৈরি করা এবং সরকারকে দুর্বল করা।

খামেনির বক্তব্যের মূল বিষয়

এক সরকারি সমাবেশে খামেনি বলেন, “দেশের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভের আড়ালে হাজারো মানুষ হত্যা করা হয়েছে। আমরা জানি এর পেছনে রয়েছে বিদেশি এজেন্ট এবং প্রতিকূল শক্তির কূটনীতি।” তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বলেছেন, “তারা আমাদের দেশের স্থিতিশীলতা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।”

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট

ইরানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত এবং আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হুমকির মুখে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে পশ্চিমা দেশগুলো সাধারণত ইরানের সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সমালোচনা করে থাকে। সংযুক্ত জাতিসংঘও পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং সব পক্ষের সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকের মতামত

আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির বক্তব্য কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—দেশের অভ্যন্তরীণ চাপ কমানোর জন্য বিদেশি শক্তিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সত্যিই কি বিদেশি হস্তক্ষেপ আছে, তা প্রমাণ করা কঠিন।

উপসংহার

ইরানের বিক্ষোভ এবং সহিংসতার প্রেক্ষাপটে খামেনির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জড়িত থাকার অভিযোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমঝোতা ও কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Next Post Previous Post

Advertisement