ইন্দোনেশিয়ায় মিলল বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ
জাকার্তা — ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর ১১ আরোহী বহনকারী ছোট বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিমানটির ভাঙা অংশ পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস)।
যেভাবে মিলল ধ্বংসাবশেষ
বাসারনাস জানায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ব্যাপক আকাশ ও স্থল অনুসন্ধান চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হেলিকপ্টার থেকে ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমানের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে।
আরোহীদের বিষয়ে তথ্য
বিমানটিতে পাইলট ও কো-পাইলটসহ মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি। হতাহতের সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খারাপ আবহাওয়া ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না।
উদ্ধার তৎপরতা ও চ্যালেঞ্জ
দুর্গম এলাকা ও ঘন জঙ্গলের কারণে উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টি ও কুয়াশা উদ্ধার তৎপরতায় বাধা সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবুও সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ায় বিমান নিরাপত্তার প্রেক্ষাপট
দ্বীপপুঞ্জ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ব্যাপক হলেও পাহাড়ি অঞ্চল ও দ্রুত বদলে যাওয়া আবহাওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে দেশটিতে বিমান নিরাপত্তা ও রাডার কাভারেজ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।
উপসংহার
নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হলেও আরোহীদের ভাগ্য নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে নিহতদের পরিবার ও আন্তর্জাতিক মহল।
