ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটি ছাড়ল যুক্তরাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রণে ইরাকি সেনাবাহিনী
বাগদাদ — ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আইন আল-আসাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সরে গেছে। ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইরাকি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এই পদক্ষেপকে ইরাকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কমানোর পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘাঁটি হস্তান্তরের প্রেক্ষাপট
আইন আল-আসাদ ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও জোট বাহিনীর অন্যতম প্রধান সামরিক কেন্দ্র ছিল। ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানে এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকি পার্লামেন্ট ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে ধাপে ধাপে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ইরাকি সেনাবাহিনীর বক্তব্য
ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “আইন আল-আসাদ ঘাঁটির নিরাপত্তা ও পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব এখন ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্ষম।” সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ঘাঁটির অবকাঠামো ও সরঞ্জাম আগের চুক্তি অনুযায়ী হস্তান্তর করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নয়, বরং কৌশলগত পুনর্বিন্যাস। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাকি বাহিনী এখন নিরাপত্তা সামলাতে যথেষ্ট সক্ষম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে এবং প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক ভূমিকায় মনোযোগ দিচ্ছে।
আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই হস্তান্তর ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠীগুলো বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ইরাক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, বিশেষ করে তেল বাজার ও প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে।
উপসংহার
আইন আল-আসাদ ঘাঁটি ইরাকি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যাওয়াকে দেশটির সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি প্রতীকী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা সময়ই বলে দেবে।
