নতুন করে বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, শত শত ট্রাক্টর নিয়ে রাস্তায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা

ঢাকা — ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ও দেশজুড়ে আবারও **কৃষকদের তীব্র বিক্ষোভ** শুরু হয়েছে, যেখানে কয়েকশ’ কৃষক তাদের **ট্রাক্টর ও কৃষি যন্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন**। এই সমাবেশ আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিভিন্ন মহাসড়ক ও জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয়, এবং এতে প্রায় **৩৫০টি ট্রাক্টর** অংশ নেয় বলে স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। 0

কেন ফুটে উঠেছে কৃষকদের রোষ?

ফরাসি কৃষকরা বলছেন তারা দীর্ঘদিন ধরে **অর্থনৈতিক চাপে পড়েছেন**—উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি ও সার-ভূমি খরচের ঊর্ধ্বগতি, এবং কঠোর পরিবেশগত নিয়মশৃঙ্খলা তাদের লাভের মার্জিন সংকুচিত করেছে। একই সাথে তারা **ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রস্তুতব্য বাণিজ্য চুক্তি (ইইউ-মার্কোসুর)** নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই চুক্তি চালু হলে মারকোসুর থেকে সস্তা কৃষিপণ্য আমদানি করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ফরাসি কৃষকদের পণ্যের দাম কমিয়ে তাদের প্রতিযোগিতায় আরও পিছিয়ে ফেলতে পারে বলে দাবি করেন তারা। 1

বিক্ষোভ কোথায় ও কীভাবে?

ট্রাক্টর ঘুরিয়ে প্যারিসের Champs-Élysées, আফসোস্নে রাস্তা, এবং সেনে নদীর পাড় দিয়ে জাতীয় সংসদ (National Assembly) পর্যন্ত পৌঁছানো হয়েছে। পুলিশ তাঁদের সঙ্গে অভিযোজিতভাবে রয়েছে এবং বেশ কিছু জায়গায় যানজট ও ট্রাফিক ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা “সম্পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ” নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে, যাতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের জীবিকা রক্ষা করা যায়। 2

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাব

এই বিক্ষোভটি শুধু কৃষকদের অভিজ্ঞতা নয়; এটি রাজনৈতিক দিকেও চাপ ফেলছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের উপর বিরোধী দলগুলো ও কৃষক সংগঠনগুলো চাপ বাড়াচ্ছে যাতে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়। বিক্ষোভকারীরা বলছেন যে কৃষিক্ষেত্রের সমস্যা কেবল ফ্রান্সে নয়—ইউরোপজুড়ে কৃষকদের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে এবং এটি সমর্থন ও ন্যায্য নীতির অভাবের প্রতিফলন। 3

দূরবর্তী প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

এই বিক্ষোভটি আবার আন্তর্জাতিক মানচিত্রেও ফ্রান্সের কৃষি ও বাণিজ্য নীতির ওপর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি **ইইউ-মার্কোসুর চুক্তি** অনুমোদিত হয় তাহলে তা কৃষি বাণিজ্যে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং ফরাসি কৃষকদের পণ্যের বাজারে চাপ বাড়াবে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা বা নতুন নীতি ঘোষণা করা হতে পারে, তবে তা কৃষকদের দাবি পূরণে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 4

Next Post Previous Post

Advertisement