দালালরা সম্পদ গড়েছে, মিডিয়া চালাচ্ছে: মাহফুজ আলম
রাষ্ট্র সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তার মূল উদ্দেশ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ভেতরেই প্রভাবশালী দালাল গোষ্ঠী বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছে এবং তারা গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা পরিবর্তনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোট’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ও বাস্তবতার ফারাক
মাহফুজ আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা অল্প কিছু মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য হয়নি; এটি হয়েছিল সার্বিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পুরোনো ক্ষমতাকাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। তার মতে, বিদেশ থেকে অবৈধ অর্থ আসার প্রশ্নের আগেই দেশের ভেতরে গড়ে ওঠা দালালচক্র সম্পদ জমিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে এবং সেই প্রভাব এখনও অটুট।
তিনি বলেন, “রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল—রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ।
সংস্কার প্রক্রিয়ায় বাধা ও অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা দাবি করেন, দায়িত্বে থাকার শেষ চার মাসে তাকে কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তার ভাষায়, পুরোনো বন্দোবস্তের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বহাল রেখে নতুন কাঠামো গড়ে তোলা বাস্তবসম্মত নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গিয়ে অনেক সময় সংস্কার প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে পড়ে। মাহফুজ আলমের বক্তব্য সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন তারা।
সম্পদের পুনর্বণ্টন ও রাজনৈতিক সমঝোতা
সেমিনারে মাহফুজ আলম সম্পদের পুনর্বণ্টনের বিষয়টিকে রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই সনদে যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চুক্তি থাকে, তবে কেন বাস্তবে তার বিপরীত বক্তব্য ও অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
তার মতে, রাজনৈতিক সমঝোতা মানে কেবল ক্ষমতা কাঠামোর পুনর্বিন্যাস নয়; এর সঙ্গে সম্পদের ন্যায্য বণ্টনও জরুরি। বিশেষ করে জমি বণ্টনের মতো মৌলিক বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বার্তা
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থান দেশকে একটি সম্ভাবনাময় পথে এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক আচরণ সেই অগ্রযাত্রাকে আবার পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করলে সংস্কার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে।
উপসংহার
মাহফুজ আলমের বক্তব্য নতুন করে রাষ্ট্র সংস্কার, সম্পদের পুনর্বণ্টন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন ছাড়া গণভোট বা রাজনৈতিক উদ্যোগগুলোর প্রতি জনআস্থা টেকসই হবে না। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দাবি এখনো যেমন প্রাসঙ্গিক, তেমনি চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে বহুগুণ।
Source: Based on reporting from Amar Desh
