ঢাকার ১৩টি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলো ৮ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে নির্বাচনী চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৩টি সংসদীয় আসন থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। এতে করে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমীকরণেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এই সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৮ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান। প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে ইসলামী দলগুলোর পাশাপাশি বামধারার একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীও রয়েছেন।

যে দল ও আসনগুলোতে প্রার্থিতা প্রত্যাহার

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-১০ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ঢাকা-১৮ আসনে একাধিক প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী বিলকিস নাসিমা রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহম্মদ আশরাফুল হক।

ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহসানউল্লাহ এবং একই দলের আরেক প্রার্থী মো. রিফাত হোসেন মালিক প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ঢাকা-১৭ আসন থেকেও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. এমদাদুল হক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

এছাড়া ঢাকা-৫ আসনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মোখলেছুর রহমান কাছেমী এবং ঢাকা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. ফয়েজ বখ্স সরকার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।

প্রার্থীতালিকা হালনাগাদে নির্বাচন কমিশন

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়া সব আবেদন আইন অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর প্রার্থীতালিকা এখন হালনাগাদের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে ঢাকার এসব আসনে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে কী ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এই প্রবণতা নিছক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে আসনভিত্তিক সমঝোতা, জোটগত হিসাব এবং কৌশলগত পরিকল্পনা। বিশেষ করে ঢাকার কয়েকটি আসনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বা ভোট ভাগ কমানোর কৌশল কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্লেষকদের আরও মত, রাজধানীর আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাধারণত বেশি হওয়ায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার ভোটের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এতে করে শক্ত প্রার্থীদের অবস্থান আরও মজবুত হতে পারে, আবার কিছু আসনে ভোটের সমীকরণ নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সারসংক্ষেপ

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বিভাগের ১৩টি আসনে মোট ২৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ১৭৪ জন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১১৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৫৪টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ঢাকা-১৮ আসনের একটি মনোনয়ন প্রথমে স্থগিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

সব মিলিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ঢাকার নির্বাচনী মাঠ এখন আরও গোছানো রূপ নিচ্ছে। সামনে প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে রাজধানীর ভোটের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।

Source: Based on reporting from Bangladeshi national media

Next Post Previous Post

Advertisement