ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিচার শুরু, ইন্টারনেট ‘ব্ল্যাকআউট’ বহাল
তেহরান — ইরান সরকার সাম্প্রতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নাগরিকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে দেশজুড়ে যোগাযোগ ও তথ্য প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা
সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইরানে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা দাঙ্গা, ভাঙচুর ও সরকারবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদপোর্টালগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এটি জননিরাপত্তা রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে তথ্য প্রবাহ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার উপর চাপ হিসেবে দেখছেন।
আইনানুগ প্রক্রিয়া ও সমালোচনা
বিক্ষোভকারীদের আদালত সূত্রে জানা গেছে, তারা ‘রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম’ ও ‘নাগরিক অশান্তি’ দায়ে বিচারাধীন। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা তৈরি করছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং বিক্ষোভকারীদের বিচার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের ভেতরের অশান্তি ও তথ্য সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার
ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিচার ও ইন্টারনেট সেবার ব্ল্যাকআউট অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দৃষ্টিকটু। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক করছে, কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে দেশজুড়ে উত্তেজনা ও মানবাধিকার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
