প্রশাসনের ‘কিবলা’ একটি দলের পার্টি অফিসে: আসিফ মাহমুদ
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৩ | আপডেট: ১৭:৩৪
প্রশাসনের লোকজন ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে এটিকে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি—প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট দলের পার্টি অফিসে যাচ্ছেন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।”
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় যেসব অনিয়ম ও ‘ইল প্র্যাকটিস’ দেখা গেছে, সেগুলো আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
তার ভাষ্য, “বাংলাদেশে সব সময়ই প্রশাসনের একটি ঝোঁক ক্ষমতাসীনদের দিকে থাকে। কিন্তু ক্ষমতাসীন হওয়ার আগেই, জনগণের রায় প্রকাশের আগেই এমন ধৃষ্টতা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হলে এনসিপি রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে আন্দোলনের পথেই যাবে দলটি—এমন হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তিনি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও আপিল প্রক্রিয়ায় ‘দলীয় পক্ষপাত’ এবং ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে তা বন্ধের আহ্বান জানান।
মনোনয়ন যাচাইয়ে বৈষম্যের অভিযোগ
আসিফ মাহমুদ বলেন, “আপিল শুনানিতে যদি কোনো ধরনের প্রেফারেন্স বা পক্ষপাতিত্ব থাকে, তাহলে আমরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বসে থাকব না—প্রয়োজনে রাজপথে নামব।”
তিনি অভিযোগ করেন, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির এক প্রার্থী শত কোটি টাকার ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করলেও তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এমন কোনো তথ্য গোপনের অভিযোগ না থাকলেও তাকে ভিন্ন আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে।
একইভাবে সিলেট-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী এহতেশাম হকের মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য পরবর্তীতে দাখিলের অনুরোধ সত্ত্বেও বাতিল করা হয়েছে। অথচ সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী একই পরিস্থিতিতে বৈধতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
একই জেলায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত
আসিফ মাহমুদের দাবি, একই জেলার জেলা প্রশাসক দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা স্পষ্ট পক্ষপাতের প্রমাণ। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে অন্তত ১০০টির বেশি উদাহরণ আছে, যেখানে মনোনয়ন যাচাইয়ে বৈষম্য করা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানিকগঞ্জে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সরকারি অফিস থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কিত প্রার্থীদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, জনগণের মধ্যে একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এই নির্বাচনও কি বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো প্রশাসনের একতরফা ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে?
তিনি জানান, একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হলফনামায় ১৯০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করেছেন এবং তিনি তুরস্কের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলার আসামি ও একাধিক হত্যা মামলার আসামিরাও মনোনয়ন পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “যারা অতীতে ফ্যাসিবাদকে বৈধতা দিয়েছে, আমরা চাই না তারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।”
