ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলার মতো প্রধানমন্ত্রী মোদিকেও অপহরণ করবেন?

প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৮

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য করে ভারতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিরোধীদল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পৃথ্বীরাজ চবন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনার প্রেক্ষাপটে পৃথ্বীরাজ চবন এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, তেমন কিছু কি ভারতে ঘটবে? ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করবেন?”

সমালোচনার ঝড়

কংগ্রেস নেতার এমন মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘দেশের জন্য অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই। জম্মু-কাশ্মির পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা এসপি বৈদ বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য সমগ্র দেশের জন্য অপমানজনক। ভারতের মতো একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ক্ষেত্রে এমন তুলনা হাস্যকর।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী চবনের বক্তব্যকে ‘ব্রেন ডেড’, ‘অশিক্ষিত’ ও ‘মূর্খতাপূর্ণ’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়েও মন্তব্য

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা পৃথ্বীরাজ চবন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক আরোপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “৫০ শতাংশ শুল্ক থাকলে কার্যত বাণিজ্য সম্ভব নয়। এটি সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে শুল্ককে বাণিজ্য বন্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের শামিল।”

তার মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারতের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি থেকে যে মুনাফা পেত, তা আর পাবে না। ফলে ভারতকে বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে এবং সেই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

‘এরপর কী’—নতুন প্রশ্ন

‘এরপর কী হতে পারে’—এমন প্রশ্ন তুলে পৃথ্বীরাজ চবন বলেন, “ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যা করেছেন, ভারতের সঙ্গেও যদি তেমন কিছু করেন, তাহলে কী হবে?”

এ বক্তব্যের জবাবে এসপি বৈদ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও মাদুরোর সঙ্গে যা করেছেন, তা নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রেও হওয়া উচিত—এমন ভাবনা দেশের জন্য অপমানজনক। কথা বলার আগে অন্তত ভাবা উচিত। নাকি এটাই এখন কংগ্রেসের আসল আদর্শ?”

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত

চবনের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো থামেনি। শাসক দল ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসের ভেতর থেকেও কেউ কেউ মন্তব্যটির সময়োপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Next Post Previous Post

Advertisement