ভেনেজুয়েলার পর এবার আরেক দেশে হামলার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর পর এবার প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর ভূখণ্ডে হামলার ঘোষণা দিয়েছেন। মাদক পাচার ও অপরাধী কার্টেল দমনের অজুহাতে দেওয়া এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘোষণা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকেও সামনে আনছে।

ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পানিপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা মাদকের প্রায় ৯৭ শতাংশ প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এখন আমরা কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করব।” তবে মেক্সিকোর কোথায় বা কীভাবে এই ধরনের অভিযান চালানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি তিনি।

মাদকবিরোধী যুদ্ধ ও সামরিক কৌশল

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে একাধিক নৌযানে মার্কিন বাহিনীর হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযানের পক্ষে এখনো প্রকাশ্য কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এই অভিযানে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির অভিযোগও উঠেছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আইনশৃঙ্খলা জোরদারই মাদক সমস্যার টেকসই সমাধান হতে পারে।

মেক্সিকোর কড়া প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের হুমকির পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক অভিযান গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, মেক্সিকোর ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার কেবল মেক্সিকোরই রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক মাদক চক্র দমনে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের একক ঘোষণাকে কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অবস্থান পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রশ্ন

এর আগে ভেনেজুয়েলায় অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যে এই অভিযানের সমালোচনা করেছে। ট্রাম্প অবশ্য এসব অভিযোগকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রকাশ্যে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন তাঁর সিদ্ধান্তে বাধা নয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ বৈশ্বিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশি দৃষ্টিকোণ

বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি সরাসরি জড়িত না হলেও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হলে তার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে পড়তে পারে। মধ্য ও লাতিন আমেরিকার অস্থিরতা বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং অভিবাসন প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে, যার পরোক্ষ প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপসংহার

ভেনেজুয়েলার পর মেক্সিকোতে হামলার হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাদকবিরোধী লড়াইয়ের নামে সামরিক শক্তি প্রয়োগ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে—সে প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

Source: Based on reporting from Gulf News and Fox News

Next Post Previous Post

Advertisement