ইরানে নিহতের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি
ঢাকা — আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানাচ্ছে, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও তাদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ফলে নিহতের সংখ্যা ভয়াবহভাবে **১২,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে**, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রক্তপাত বলে আখ্যায়িত হয়েছে। এই সংখ্যা সরকারের স্বীকৃত পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। 0
সংখ্যান ও তথ্যের উৎস
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই ১২,০০০-এর অধিক মৃত্যুর হিসাব মূলত Iran International এর মতো সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সূত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। এই আশঙ্কা অনুযায়ী, নির্ণীত মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটনা নির্দিষ্ট দুই রাতের মধ্যে সংঘটিত হয়, যখন নিরাপত্তা বাহিনী রাজনৈতিক বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক হস্তক্ষেপ চালায়। 1
একই প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা HRANA যতটুকু নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করেছে, তাতে প্রায় ৬৪৬টির মতো মৃত্যুর ঘটনা যাচাই করা গেছে, যেখানে অনেক নিহতই বিক্ষোভকারীরাই রয়েছেন। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ২,০০০ জন মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে, যদিও এই সংখ্যাও আন্তর্জাতিক মাধ্যমে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। 2
ইরানের পরিস্থিতি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি
ইরানের বিক্ষোভগুলো শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক সংকট ও জীবিকার মতো ইস্যু থেকে, কিন্তু দ্রুত তা সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয় এবং বিভিন্ন শহরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার ফলে সংঘর্ষ, নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট, গ্রেপ্তার ও হিংস্র পদক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। 3
সরকারি তরফ থেকে এই বিক্ষোভগুলোকে “বিদেশী ষড়যন্ত্র” ও “সন্ত্রাসী কার্যক্রম” হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে যে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা বেশি হতে পারে এবং সরকারি সংখ্যা কম দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যেমন HRANA বলছে, নির্দিষ্ট সময়ে ১০,৭২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও দমন কার্যক্রম চলছে। 4
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জেরুজালেম পোস্টসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানের পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানকে সতর্ক করেছে যে বেসরকারি নাগরিকদের উপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ইরানে অবাধ যোগাযোগ ও সংবাদ প্রবাহ পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে ঘটনাগুলোর প্রকৃতরূপ প্রকাশ পায়। 5
বিশ্লেষণ
এভাবে বিভিন্ন সূত্রের মধ্যে বড় ধরনের ভিন্নতা থাকার কারণে সঠিক মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও যুক্তরাজ্যভিত্তিক Iran International-এর মতো সংবাদমাধ্যম ১২,০০০-এর মতো উচ্চ সম্ভাব্য সংখ্যার কথা তুলে ধরছে, যা ইরানের সাম্প্রতিকতম রাজনৈতিক অস্থিরতার গুরুতর পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে উপাত্ত ও গবেষণার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যাতে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। 6
