আন্দোলনের মুখে ২০ জানুয়ারিতেই বহাল শাকসু নির্বাচন
শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে পূর্বনির্ধারিত সময়েই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—শাকসু নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়েই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। বৈঠকে পূর্ণ কমিশনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
জরুরি বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত এলো
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন ঘিরে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা বিস্তারিতভাবে সিইসিকে অবহিত করা হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এবং শাকসু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি চায়।
আলোচনার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশ্বাস দেন, শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য হবে না। ফলে আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়েই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের পথে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ক্যাম্পাস আন্দোলনের পটভূমি
এর আগে জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাত থেকেই শাবিপ্রবিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শাকসু নির্বাচন বাতিলের আশঙ্কায় সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে নামেন। রাতভর স্লোগান ও মিছিলের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দফায় দফায় আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেয়, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এই আশ্বাসে মঙ্গলবার ভোরের দিকে আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হলেও শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার মধ্যে স্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেন।
ফেসবুক ঘোষণায় আংশিক স্বস্তি, পুরো আস্থা নয়
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে শাকসু নির্বাচন ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। তবে রাত পর্যন্ত আন্দোলন পুরোপুরি প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা সরাসরি অবহিত করা হয়নি। ফলে তারা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত নন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শাকসু নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। শাকসু নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব নির্বাচন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মতামত ও গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই নির্বাচন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষাঙ্গনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
উপসংহার
শিক্ষার্থীদের চাপ ও ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শাকসু নির্বাচন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এখন সবার দৃষ্টি আগামী ২০ জানুয়ারির দিকে—শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই হবে আস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
Source: Based on reporting from Naya Diganta
