ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৮ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার প্রার্থিতা বহাল রাখে। বিষয়টি মাহমুদুর রহমান মান্না নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ফলে বগুড়া-২ আসনে মনোনয়ন বাতিল হলেও রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তার নির্বাচনি দৌড় অব্যাহত থাকছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ এর একদিন আগেই বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই প্রার্থীর ক্ষেত্রে দুই আসনে ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ও আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বগুড়া-২ আসনে কেন বাতিল হয়েছিল মনোনয়ন

বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর ইসলাম গত শুক্রবার বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, হলফনামায় দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি এবং নোটারি পাবলিকের কাগজে স্বাক্ষরের তারিখে গরমিল পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র ও হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সত্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সামান্য অসংগতি থাকলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিলের ক্ষমতা রাখেন। বগুড়ার ক্ষেত্রে সেই বিধানই প্রয়োগ করা হয়েছে বলে নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে।

ঋণখেলাপি ইস্যু ও আইনি লড়াই

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে সম্প্রতি বড় অঙ্কের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের নামে প্রায় ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে গত ১০ ডিসেম্বর একটি কলব্যাক নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী। অংশীদারত্ব কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে মান্নার মালিকানা ৫০ শতাংশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে মান্না হাইকোর্টে রিট করেন। তবে হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ২৯ ডিসেম্বর ঋণখেলাপির তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন, যা নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি বাধা অনেকটাই দূর করে।

ঢাকা-১৮ আসনে কেন টিকে গেল মনোনয়ন

আইনি জটিলতা কাটার পর একই দিনে বগুড়া-২ আসনে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে বগুড়ায় মান্নার নির্বাচনি সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে তিনি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যেখানে যাচাই-বাছাইয়ে কোনো আইনগত বা তথ্যগত অসংগতি পাওয়া যায়নি বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ফলে রাজধানীর এই আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি হিসেবে মান্না ভোটের মাঠে থাকছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৮ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হওয়ায় এখানে মান্নার প্রার্থিতা নির্বাচনি সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

শেষ কথা

একই প্রার্থীর ক্ষেত্রে দুই আসনে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নির্বাচনি বাস্তবতার জটিল দিকগুলো সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না কতটা সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন কাজে লাগাতে পারেন এবং নির্বাচনি প্রচারণায় এই সাম্প্রতিক বিতর্ক কীভাবে প্রভাব ফেলে।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online.

Next Post Previous Post

Advertisement