উন্নয়নের স্বার্থে সৎ যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের উন্নয়নের স্বার্থে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে নৈতিকতা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিলে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. তাহের এসব কথা বলেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
ঐক্য ও নৈতিক রাজনীতির ওপর জোর
ডা. তাহের বলেন, “আমরা যে দলই করি না কেন, উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে।” তার মতে, নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচিত করা হলে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না—এমন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তিনি।
১০ দলীয় জোটের পরিধি ও অবস্থান
ডা. তাহের দাবি করেন, ১০ দলীয় জোট এখন একটি বৃহৎ জোটে রূপ নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই জোটে স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন জীবিত বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি ও তাদের দল, পাশাপাশি দেশের বড় ইসলামিক দলগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জোটের বিস্তার ও প্রতিনিধিত্বের এই দাবি নির্বাচনি মাঠে সমর্থন জোরদারের কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারত প্রসঙ্গে বক্তব্য ও সংবাদ উদ্ধৃতি
সমাবেশে ডা. তাহের ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের উদ্ধৃতি দেন। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান ভারতের সঙ্গে তিনটি শর্তে চুক্তি করেছেন—এমন দাবি সংবাদে এসেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্তদের পুনর্বাসন, বাংলাদেশের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ভারতের অনুমতি নেওয়া এবং ইসলামপন্থি দলগুলোকে দমন।
এই দাবিগুলো তিনি সংবাদসূত্রের উদ্ধৃতি হিসেবে উপস্থাপন করেন। বিষয়টি নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সংখ্যালঘু অধিকার প্রসঙ্গে অবস্থান
ডা. তাহের বলেন, আনন্দবাজার পত্রিকার পক্ষ থেকে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—হিন্দুদের জায়গা দখলের অভিযোগ নিয়ে। জবাবে তিনি বলেন, দেশে হিন্দুদের অনেক জায়গা বেদখল হয়েছে; তবে জামায়াতের কোনো সদস্য হিন্দুদের জায়গা দখল করেনি বলে তার দাবি।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, “ভারত যাদের বন্ধু মনে করে, তারাই হিন্দুদের সম্পদ লুট করে”—এ বক্তব্যটি তিনি রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতারা
চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আবদুস সাত্তার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমির সাহাব উদ্দিন, পৌর আমির মাওলানা মু. ইব্রাহিম, উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া নঈমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ থেকে নেতারা শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানান এবং ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online
