সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা ছিল আমেরিকা-ইসরায়েলের, ইরানি জনগণ রুখে দিয়েছে

তেহরান — ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেছে, দেশটির সরকার উৎখাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে পরিকল্পনা করেছিল। তবে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও ঐক্যের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের অভিযোগ

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ ছিল। ইরানের দাবি, অর্থনৈতিক চাপ, সাইবার হামলা এবং তথ্যযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানো হয়।

জনগণের ভূমিকা

ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়িয়ে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী সমাবেশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জনগণের সহযোগিতাকে ‘নির্ণায়ক ভূমিকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

এই অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তারা বলছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির দায় দেশটির সরকারই এড়িয়ে যেতে পারছে না।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অঞ্চলটির উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ কঠিন করে তুলবে।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান একদিকে অভ্যন্তরীণ ঐক্য জোরদার করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে।

উপসংহার

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও জনগণের প্রতিরোধের দাবি ইরানের রাজনৈতিক বয়ানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাস্তবতা ও কূটনৈতিক প্রভাব কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।

Next Post Previous Post

Advertisement