নেত্রকোনা-৪ এ দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে মরিয়া জামায়াত জোট, স্ত্রীসহ মাঠে বাবর

নেত্রকোনা-৪ আসনে ভোটের লড়াই তীব্র: দাঁড়িপাল্লা বনাম ধানের শীষ

নেত্রকোনা-৪ সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। হাওরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে জামায়াত ইসলামী সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে।

জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটের সক্রিয় প্রচারণা

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আল হেলাল তালুকদারকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছে জামায়াত ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাওরের গ্রাম-গঞ্জে পথসভা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন জোট নেতাকর্মীরা।

আল হেলাল তালুকদার ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক। অতীতে তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দিগন্ত টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এলাকায় তিনি ‘ক্লিন ইমেজের’ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।

আল হেলাল তালুকদার বলেন, “আমরা জনগণের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তন চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে।”

বিএনপির প্রার্থী বাবর ও স্ত্রীর মাঠে নামা

অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক মামলায় দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর কারাবন্দী ছিলেন বাবর। ওই সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী। তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। এবার বাবরের সঙ্গে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তাহমিনা জামান শ্রাবণীও।

বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় বাবর বলেন, নির্বাচিত হলে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি তার অগ্রাধিকার হবে। পাশাপাশি তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সাধারণ জনগণকে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

ভোটের অঙ্ক ও বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে লুৎফুজ্জামান বাবরের জনপ্রিয়তা একটি বড় ফ্যাক্টর। অতীতের নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের চেয়েও বাবরের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ধানের শীষের বিজয়ে ভূমিকা রেখেছে বলে তারা মনে করেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবর ছাড়া অন্য কেউ বিএনপির প্রার্থী হলে জামায়াত প্রার্থী আল হেলাল তালুকদারের অবস্থান আরও শক্ত হতো। ফলে এবারের নির্বাচন জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে।

অন্যান্য প্রার্থী

এই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য জলি তালুকদার, ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার এবং ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুখলেছুর রহমান। তবে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় মূল লড়াই দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন ভোটাররা।

নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, নেত্রকোনা-৪ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা ততই বাড়ছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next Post Previous Post

Advertisement